সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করার অনেক কিছুই আছে যা আমরা জানিনা ।

ফেসবুকের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পেজ গুলো দেখলে মনে হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলতে শুধু বিবিএ/বিএ/বিএসএস/এমএসএস এসব সাবজেক্টের অনার্স আর পাস(ডিগ্রি) কোর্স । কারণ ঐসব পেজে শুধু ঐ সব সাবজেক্টের ১ম,২য়,৩য়,৪র্থ বর্ষ রেজাল্ট ও রুটিন , এডমিশন সম্পর্কিত ছাড়া কিছু কিছুই পাবলিশ হয়না। অথচ বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারী ও বেসরকারি মোট ২,১৮২ টি কলেজের মধ্যে Law College ই আছে ৭৩ টি , ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও প্রযুক্তি বিষয়ে কলেজ আছে ৭৭ টি ,ব্যাচলর অব বিজনেস এডমিনিস্টেশন(BBA) (প্রফেশনাল) এর কলেজ আছে প্রায় ৯১ টি , ব্যাচলর অব এডুকেশন(B.Ed) কলেজ আছে ৯ টি, Teachers training কলেজ আছে ৭৩ টি , Music নিয়ে কলেজ আছে ২ টি , আছে বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় তৈরির প্রতিষ্ঠান Bangladesh Krira Shikkha Protishtan(BKSP) , আছে Bangladesh Marine Academy(চট্টগ্রাম) , আছে Marine Fisheries Academy , সাংবাদিকতা নিয়ে দেশের একমাত্র কলেজ Press Institute of Bangladesh, আছে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত ৩-৪ টি কলেজ , আছে বাংলাদেশের aviation management ও Aeroneutical engeneering কলেজ যেখান থেকে কিনা শত শত শিক্ষার্থী ফ্রান্স, জার্মানি, ফিনল্যান্ড ইত্যাদি দেশে এয়ারলাইন কোম্পানি গুলোতে দেশের নাম জড়িয়ে গর্বের সহিত কাজ করছে , আছে management information system(MIS) এর কলেজ ,আছে শরীরচর্চা বিষয়ক physical education college ১৭ টি , আছে tourism & hospitality management এর কলেজ,আছে photography নিয়ে কলেজ ইত্যাদি ইত্যাদি । আপনারা কেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কে নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে পোস্ট করছেন । আপনারা উদ্যোগী হওয়ার চেষ্টা করুন পোস্ট যেহেতু করছেন সব বিষয়ে পোস্ট করুন। আমাদের সমাজে কেউ যদি বলে আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে B.sc করছি বললে কথাটা শুনে মনে হয় আকাশ থেকে পড়ছে/ বিশ্বাস করতে চায় না । বা প্রফেশনাল বিবিএ বললে পাবলিকে বলে এটা আবার কি জিনিস নতুন শুনলাম । 
অনেকেই আবার বলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মানে সেশন জট আর জট , এই জট যেন ছারতেই চাইনা অথচ আপনারা জানেন না জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে(১৯৯২ সাল) একমাত্র প্রফেশনাল বিবিএ তে কোন সেশন জট ছিল না ।অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একডেমিক কলেজ গুলোতে বিবিএ কোর্স শুরু হয়েছে ২০১৩ সাল থেকে। এখন যদি একাডেমীক কলেজে পড়া কোন ছাত্র ছাত্রী এই কথা বলা হয় তাহলে মনে ফাউ কথা বলে উরিয়ে দিবে । কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য শেয়ার করে , জানতে চায় না জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কি আছে !!!! আপনাদের এই ধরনের নেতিবাচক তথ্য ও সীমাবদ্ধ গণ্ডির পোস্ট গুলো দেখলে যে কেউ বলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিছুই হবে না । বা আপনাদের পেজ গুলোতে ঘুরলে যে কেউ বলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হল একমাত্র মশা মারার জায়গা ,ক্লাস হয়না ঠিকমত। অথচ বাংলাদেশের সরকারী সমস্ত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রফেশনাল কোর্স গুলোতে সবচেয়ে বেশী ক্লাস হয় । যারা বিশ্বাস করতে চান না তারা পারলে অন্তত একমাস পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নিজে গিয়ে ক্লাস গুলো পর্যবেক্ষণ করুন ।
ওহহ......হ্যাঁ আরেকটা কথা আপনারা হয়ত এমন অনেকেই আছেন যারা কিনা জানেন না যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ৩৭ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১ টি আবার অনেকে হয়তো এটাও জানেন না যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ছাত্রির দিক থেকে সারা বিশ্বে ৫ম বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় , এছাড়া বাংলাদেশের সমস্ত পাবলিক এবং প্রাইভেট ১১৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রেংকিং এ ৩০ নম্বরে(এর মধ্যে রেংকিং এ ১-২৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র ১৬ টি আর বাকি ১৫ টা ছিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়) । 
আজ থেকে ৪ বছর আগেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনলাইন বা সোশ্যাল সাইট যেমন ফেসবুকে প্রফেশনাল কোর্স গুলো নিয়ে একটা পেজ বা গ্রুপ সার্চ দিলে পাওয়া যেত না । আমাদের কিছু এডমিন দের সহায়তায় আজ অন্তত কেউ চাইলে কিছু ভাল পেজ ও গ্রুপের নাম খুঁজে পায় । গত ৩-৪ বছরের চেস্তায় আজ অন্তত অনেকেই জানে যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কিছুই আছে । তাই আমরা সবসময় চেষ্টা করি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত সব তথ্য শেয়ার করতে । তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা শুধু বেশী লাইক পাওয়ার জন্য এই পেজগুলোতে কিছু নির্দিষ্ট পোস্ট করবেন না । আপনারা না জানালে আগামির প্রজন্ম জানবে কীভাবে। হয়তো প্রথম দিকে লাইক কম পড়বে কিন্তু যখন ধীরে ধীরে সবাই জানবে তখন সবাই আগ্রহ প্রকাশ করবে । 
এছাড়া প্রফেশনাল কোর্স সমূহের ছাতছাত্রি দের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি , আপনারা আরও অধিক গ্রুপ বা পেজ খুলুন । আর ইতিমধ্যে যেসব পেজ/গ্রুপ খুলা হয়েছে সেগুলো বেশী বেশী শেয়ার করুন , প্রফেশনালের ছাত্রছাত্রী দের এড করুন , তথ্য শেয়ার করুন, দরকার হলে একবার সব গ্রুপের এডমিন রা দেখা করুন । আপনারা না জানালে দেশের মানুষ জানবে না । দরকার হলে আমরা আপনাদের পেজ বা গ্রুপ গুলো promote করতে সাহায্য করব । আমরা আপনাদের পাশে আছি ইনশাল্লাহ ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University) থেকে Medium Of Instruction (MOI) কিভাবে নিবেন?

⭕ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল কোর্স সম্পর্কে অনেকে অনেক কিছুই জেনেছেন আজ নতুন একটা দিক নিয়ে বলবো!(অনেকে জেনে থাকতেও পারে) সেটা হলো প্রফেশনাল অনার্স কোর্স থেকে পাশ করে যারা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছুক তাদের বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কে একটি এক্সট্রা সনদ দিতে হয় সেটা হল MOI।  Medium of Instruction 🎀 MOI মানে হল  Medium of Instruction (MOI)   এটা হল আপনি যে পূর্বের পড়াশোনা(অনার্স/মার্স্টাস) ইংরেজি মাধ্যমে পড়েছেন সেটার সনদ। আপনি যদি IELTS /TOEFLএর পাশাপাশি MOI দেন তাহলে আপনার স্কলারশিপ/অথবা স্কলারসশিপ ছাড়া ভর্তি এবং ভিসা পেতে জটিলতা পোহাতে হয়না।  তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে IELTS ছাড়া MOI দিয়েও ভর্তি করিয়ে থাকেন। যেমনঃ জার্মানী(অবশ্য জার্মানীতে ৯০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ফ্রি দেশী বিদেশি সব ছাত্রছাত্রী দের জন্য)।  🚩তবে যাইহোক বিদেশে যেতে হলে শুধু MOI টা দিয়ে নয় IELTS এর স্কোর এর সাথে MOI দিবেন। 🎀 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল কোর্সের স্টুডেন্ট দের MOI পেতে বেগ পোহাতে হয়। কিন্তু প্রফেশনাল কোর্সের স্টুডেন্ট দের যেহেতু পড়াটাই ইংরেজি মাধ্যমে সেহেতু অন্যান্...

নামের আগের কারা ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহার করতে পারবেন।

আপানারা অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE, ECE, Aeronautical Engineering , Textile, N autical Engineering ইত্যাদি  কোর্স করে কি নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী দেয়া যায় ?  উত্তর হলঃ আপনি বাংলাদেশের যেকোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটি এবং যেকোনো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(শুধু মাত্র শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) , প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি(কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) এমনকি বিদেশী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব কোর্স করেও নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না ।  The Institution of engineers, Bangladesh(IEB) এর অনুমোদন প্রাপ্ত ডিগ্রি এবং এর পূর্ণ সদস্য ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে পাশ করে আপনি নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন । The Institution of engineers, Bangladesh(IEB) কে বলা হয় ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য অভিভাবক সংস্থা। নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার টাইটেল যোগ করতে পারার পূর্ব শর্ত হলো IEB accredited ডিগ্রী অর্জন করতে হবে। IEB র পূর্ণ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, BUET, KUET, RUET, CUET, DUET। অর্থাৎ এইসব ...

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী যারা IBA-MBA তে পড়তে চায় তাদের জন্য

★IBA(BBA/MBA)- আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর:: ►আইবিএ কি? ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনেসট্রশন এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে বিবিএ ও এমবিএ, এক্সিকিউটিভ এমবিএ পড়ানো হয়। ►আইবিএ বলতে কি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএকেই বোঝায়। জ্বি না, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইবিএ আছে, জাহাঙ্গীরনগরে আইবিএ আছে কিন্তু যদিও এখনও মানুষ আইবিএ বলতে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের আইবিএটাকেই বোঝে। ►আইবিএতে কারা পড়তে পারে? যেকোন গ্রুপ থেকে (সাইন্স/আর্টস/কমার্স) এইচ এসসি পাশ করার পরে বিবিএতে আর যেকোন গ্রুপ থেকে (সাইন্স/আর্টস/ কমার্স) অনার্স/বিবিএ/বিএসসি অর্থ্যাৎ চার বছরের যেকোন কোর্স পাশ করে এমবিএতে ভর্তী পরীক্ষা দেয়া যায়। ►জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের/প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কি এখানে পড়তে পারবে? হ্যাঁ অবশ্যই পারেবে এবং এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই এখানে পড়তেছে। ►এখানে ভর্তীর যোগ্যত কি? বিবিএতে যোগ্যতা: যেকোন গ্রুপ থেকে এসএসসিতে ৩.০০, এইচএসসিতে ৩.০০করে মোট 7.50 এমবিএতে ভর্তীর যোগ্যতা: যেকোন গ্রুপ থেকে এসএসসিতে ৩.০০, এইচএসসিতে ৩.০০ অনার্স এ সেকেন্ড ক্লাশ বা ২.৫০ হলেই হব...