সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিএ(CA) পড়তে চাই নিজের উপর প্রবল আত্মবিশ্বাস ও Hardwork !!!



প্রায়শই জুনিয়ররা জিজ্ঞেস করে "ভাই পড়ালেখার একদম সময় পাইনা। এত্তো কাজের চাপ। কি করি বলেন তো?" আমি মনে মনে হাসি।
বিষয়টা এরকম যে, সবাই ইদানিং ১৬/১৮ ঘন্টা কাজ করছে আর বাকি সময়টায় পড়ালেখা করার সময় হচ্ছেনা। সময় যে আমরা কিভাবে হেলায় নষ্ট করছি তা আমাদের মধ্যে এই বোধটাও কাজ করছেনা আজকাল।
আমি যখন সিএ করার সিদ্বান্ত নিয়েছিলাম তখন একটা বিষয় খুব ভালো করেই জানতাম যে আমার জীবনের এ নতুন অধ্যায় খুব একটা সুখের হবেনা। এই তিনটা বছর মোটামুটিরকম জাহান্নামের আশেপাশে থাকার অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে। একজন সিএর ছাত্র আর দশটা ছাত্রের মত নয়। বড় ভাইরা ভয় লাগাতো, "পড়ার সময় পেলে তো পাশ করবা"। সারাদিন গাধারখাটুনি খেটে এসে রাতে পড়তে বসতে হবে। সেই পড়া দিয়েই দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিনতম পরিক্ষায় (অনেকের মতে) পাশ করতে হবে।
সিদ্বান্ত নিলাম, সবকিছু বাদ দিয়ে আমাকে পড়ার সময় বের করতে হবে। জানতাম, একাজ করতে গিয়ে এতোদিন সুখে থাকতে যা যা করেছি, তার সব বাদ দিতে হবে। আটঘাট প্রস্তুতি নিতে আমি সে সব গুলির লিস্ট করলাম।
প্রথমেই আসলো ইন্টারনেট এডিকশন। দিনের অধিকাংশ ফ্রি সময় এটার পিছনেই ব্যয় হয়। হিসেব করে দেখলাম গড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘন্টা ফেসবুকে পড়ে থাকা খুবি কমন একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। অবসর দিনগুলিতে তো আরো বেশি। অতঃপর ফেসবুক সাময়িক ভাবে ডিএক্টিভেট করে দিলাম। এরপর ইণ্টারনেট ডিসকানেক্ট করার সিদ্বান্ত নিলাম।
এরপর দেখলাম মুভির ও ইংলিশ সিরিয়ালের পিছনে মোটামুটি অনেক সময় ব্যয় হয়। এফটিপি কানেকশন থাকায় ওইসময় দিনে তিন চারটি সিনেমা অথবা সিরিয়ালের একটা সিজন টেনেটুনে দেখা ছিল ডালভাতের মত। আর হার্ডডিস্কে জমানো প্রিয় সিনেমার / সিরিয়ালের রিভিশন তো ছিলোই। সবার আগে প্রিয় সিরিয়াল ও সিনেমাগুলি ডিলিট করলাম। হাউ আই মেট ইয়োর মাদার, বিগ ব্যাঙ থিওরি, ফ্রেন্ডস, শার্লক, টু এন্ড আ হাফ মেন সিরিয়ালগুলা ডিলিট করতে গিয়ে প্রায় চোখে পানি চলে আসছিলো। তারপরও নিজেকে প্রবোধ দিয়েছিলাম এই বলে যে, ইনশাআল্লাহ একদিন অর্ধেক দেয়াল জুড়ে থাকা হাই ডেফিনিশন টিভিতেই দেখব।
এরপর লিস্ট এ এলো বন্ধুদের সাথে আড্ডা। খুব একটা আড্ডাবাজ আমি ছিলামনা। তারপরও, এটাও লিস্ট অ্যাড করে নিলাম। প্রিয় বন্ধুরা কেউ গালি দিলো, কেউ রাগ করলো। আমি জানতাম, যেদিন আমি সফল হয়ে ফিরব, সেদিন সে রাগ আর থাকবেনা।
আমি বেশি ঘুমাতাম কিন জানিনা, তবে ইন্টার্নিশিপের সময় একদিন সালাহউদ্দিন স্যার বল্লো, একজন সিএর স্টুডেন্ট হিসেবে তোমার রাতে ৫ ঘন্টার বেশি ঘুমানোর অধিকার নেই। সেই থেকে ৫ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টাও চলতো মাঝে মধ্যেই।
সব ছেড়েছুড়ে দেয়ার পর দেখা গেলো আমার হাতে অফুরন্ত সময়। এরপর সেই অমানুষিক কষ্টের দিনগুলি একেক করে পার করা। অফিস থেকে এসেই স্ট্রেইট চেয়ার টেবিলে বসে পরতাম। চেষ্টা করতাম সপ্তাহের অফিস করা দিনগুলিতে ৪/৫ ঘন্টা আর শুক্র-শনিতে ১৩/১৪ ঘন্টা করে পড়তে। বন্ধুরা সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখার দাওয়াত দিলেও অকাতরে না করে দিতাম। কোথাও ঘুরতে যাওয়া তো স্বপ্নের মতো লাগতো। এ সবই আমি চোখ বুজে করে যেতাম, কারন আমি জানতাম আমার সুখের দিন সমাগত।
কেউ কেউ আবার এক ডিগ্রী এগিয়ে এসে বলতো, “আরে, আইসিএবি ইচ্ছা করে ফেল করায়”। এইসব লোক থেকে দুইকদম পিছনে থাকলেই ভালো। নিজের দুর্বলতার ফল অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে সাময়িক ভাবে ভালো থাকার আপ্রান চেষ্টা করে তারা। কিন্তু এতে যে নিজের পায়ে কুড়াল মারা সারা, তা টের পেতে তার অনেক সময় লাগে।
যে কোনো কিছুতেই ভালো করতে চাইলে আগে নিজের সামর্থ্য যাচাই করতে হয়। তারপর সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনার কুড়ালে ধার থাকলে যে কাজ করতে আপনার ৫ মিনিট লাগার কথা ধার না থাকলে সেখানে ১ ঘন্টায় ও হয়তো আপনি শেষ করতে পারবেননা! আপনার দুর্বলতা খুজে বের করুন, এবং তা শক্তিতে রুপান্তর করার চেষ্টা করুন।
ছাত্র হিসেবে আমি মোটামুটি নিম্নশ্রেণীর। (ভাব নিয়ে বলছিনা, সত্যিই)। প্রায়শই অনেক কিছুই আমি ভুলে যাই। খুব ভালোভাবে কিছু না পড়লে এক্সাম হলে মাথা ব্ল্যাংক হয়ে যায়। তারপর ও সিএতে ঢুকার সাহস করি দুইটা কারনে। এক. আমার আত্মবিশ্বাস; দুই. আমার হার্ডওয়ার্ক করার ইচ্ছা। ইউনিভারসিটিতে থাকাকালীন সময়ে আমার বন্ধু সামির একদিন আমার মাথায় একটা বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিলো। সেটা হলো তুমি যাইই হওনা কেনো, চেষ্টা বা পরিশ্রম করলে তুমি সব কিছু পাবে। সব। বিষয়টা যানতাম না যে তা না। কিন্তু সেদিন সে আমাকে বিশ্বাস করিয়ে ছেড়েছিলো। আমার সাথে কারো দেখা হলে আমিও তার মধ্যে এই বিশ্বাস প্রোথিত করার চেষ্টা চালাই।
তিন বছরের আপনার স্যাক্রিফাইস আপনার ও একজন পাশ করা সিএর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিবে। আপনি আপনার প্রতি সৎ হয়ে জিজ্ঞেস করুন, আপনি কতটা স্যাক্রিফাইস করছেন, আর কতোটা পাশ করতে চাইছেন। পাশ করতে চাওয়ার তুলনায় পড়ালেখার পরিমান যদি কম হয়ে যায়, আপনাদের ভাষায়ই একে এক্সপেক্টেশন গ্যাপ বলে। একটা কথা আমি সবাইকে সবসময় বলি যে তুমি হার্ডওয়ার্ক করলে সবকিছুই তোমার দ্বারা সম্ভব হবে। শুধু স্বপ্ন থাকতে হবে। আর তার জন্য দিনরাত লেগে থাকতে হবে।
আলহামদুলিল্লাহ, নিম্নশ্রেণীর ছাত্র হয়েও আমি আমার লক্ষ্যে অতি অল্প সময়েই পৌছাতে পেরেছি। এর কারন আমি আমার দুর্বলতা সম্পর্কে জানতাম। আমি আমার স্ট্রেনথ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলাম। এবং শত বাধা বিপত্তি সত্বেও আমি আমার লক্ষ্যে অটল ছিলাম। আমি এ ও বিশ্বাস করি, আমার দ্বারা যেহেতু সম্ভব হয়েছে, তাহলে নিজের উপর অগাধ আস্থা রাখা প্রত্যেকটি হার্ড ওয়ার্কিং সিএ স্টুডেন্ট এরই পাশ করা সম্ভব।
©মুহাম্মদ ফিরোজ মাহমুদ শাকিল
চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট
ACNABIN
ম্যানেজার, অডিট এন্ড কনসালটেন্সি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University) থেকে Medium Of Instruction (MOI) কিভাবে নিবেন?

⭕ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল কোর্স সম্পর্কে অনেকে অনেক কিছুই জেনেছেন আজ নতুন একটা দিক নিয়ে বলবো!(অনেকে জেনে থাকতেও পারে) সেটা হলো প্রফেশনাল অনার্স কোর্স থেকে পাশ করে যারা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছুক তাদের বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কে একটি এক্সট্রা সনদ দিতে হয় সেটা হল MOI।  Medium of Instruction 🎀 MOI মানে হল  Medium of Instruction (MOI)   এটা হল আপনি যে পূর্বের পড়াশোনা(অনার্স/মার্স্টাস) ইংরেজি মাধ্যমে পড়েছেন সেটার সনদ। আপনি যদি IELTS /TOEFLএর পাশাপাশি MOI দেন তাহলে আপনার স্কলারশিপ/অথবা স্কলারসশিপ ছাড়া ভর্তি এবং ভিসা পেতে জটিলতা পোহাতে হয়না।  তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে IELTS ছাড়া MOI দিয়েও ভর্তি করিয়ে থাকেন। যেমনঃ জার্মানী(অবশ্য জার্মানীতে ৯০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ফ্রি দেশী বিদেশি সব ছাত্রছাত্রী দের জন্য)।  🚩তবে যাইহোক বিদেশে যেতে হলে শুধু MOI টা দিয়ে নয় IELTS এর স্কোর এর সাথে MOI দিবেন। 🎀 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল কোর্সের স্টুডেন্ট দের MOI পেতে বেগ পোহাতে হয়। কিন্তু প্রফেশনাল কোর্সের স্টুডেন্ট দের যেহেতু পড়াটাই ইংরেজি মাধ্যমে সেহেতু অন্যান্...

নামের আগের কারা ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহার করতে পারবেন।

আপানারা অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE, ECE, Aeronautical Engineering , Textile, N autical Engineering ইত্যাদি  কোর্স করে কি নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী দেয়া যায় ?  উত্তর হলঃ আপনি বাংলাদেশের যেকোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটি এবং যেকোনো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(শুধু মাত্র শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) , প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি(কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) এমনকি বিদেশী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব কোর্স করেও নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না ।  The Institution of engineers, Bangladesh(IEB) এর অনুমোদন প্রাপ্ত ডিগ্রি এবং এর পূর্ণ সদস্য ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে পাশ করে আপনি নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন । The Institution of engineers, Bangladesh(IEB) কে বলা হয় ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য অভিভাবক সংস্থা। নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার টাইটেল যোগ করতে পারার পূর্ব শর্ত হলো IEB accredited ডিগ্রী অর্জন করতে হবে। IEB র পূর্ণ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, BUET, KUET, RUET, CUET, DUET। অর্থাৎ এইসব ...

Professional MBA ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের(National University) শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ‼

⭕ Professional MBA নিয়ে কিছু কথাঃ যারা প্রফেশনাল বিবিএ কম্পলিট করে প্রফেশনাল MBA করবেন ভাবছেন তাদের উদ্দেশ্য বলছি, জেনারেল MBA এর তুলনায় প্রফেশনাল MBA তে সময় বেশী লাগে(NU কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে)।অথচ জেনারেল/প্রফেশনাল MBA কোর্স  ১ বছর মেয়াদি । প্রফেশনাল MBA এর কলেজ সারা বাংলাদেশে মাত্র ১২ +/- টি; সে হিসাব করলে তাদের পরীক্ষা সবার আগেই শেষ হওয়ার কথা‼ চলুন একটা বাস্তব উদাহরণ দেই.... ২০১৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেল এবং প্রফেশনাল MBA এর একসাথে সার্কুলার দিয়েছিলো।(তবে প্রায় সময় জেনারেল MBA এর টা আগে দেয় এটার আরেকটা কারণ হচ্ছে প্রফেশনাল BBA যারা করে তাদের ফাইনাল সেমিস্টার শেষে ৩ মাসের এক্সট্রা ইন্টার্নশীপের পাশাপাশি রিপোর্ট রেডি তার পরের মাসে VIVA এবং তারপর ২-২.৫ মাস পর রেজাল্ট দেয়ার কারণে)।  যথারীতি ফেব্রুয়ারি-মার্চে(ফাইনাল ওয়েটিং লিস্টের সময় পর্যন্ত) জেনারেল MBA ভর্তি শুরু হয়ে ক্লাস ও শুরু হয়ে গেলো প্রায় একই সময়ে মার্চ-এপ্রিলে প্রফেশনাল এর ভর্তি (ফাইনাল ওয়েটিং লিস্টের সময় পর্যন্ত) হয়ে গেল। কিন্তু বছর শেষে দেখা গেলো জেনারেল এমবিএ এর ফাইনাল এক্সাম শেষ রেজাল্ট ও দিয়ে দিলো কি...