সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Search Engine ব্যাবহারে সচেতন হওয়া কেন জরুরী ?

🔴 আমরা সার্চ ইঞ্জিনে অনেক সময় অনেক কিছুই সার্চ দিয়ে থাকি; অনেকে মনে করেন বদ্ধ ঘরে আছি যা খুশি তাই সার্চ দিয়ে জেনে নেই।  হ্যাঁ জেনে নেয়াটা ভালো; খারাপ কিছুনা কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি যখন অনলাইনে যেকোনো Apps থেকে লগিন করা অবস্থায় সার্চ দিলেই সেগুলো অটোম্যাটিক ট্র্যাকিং করা হয়  এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে Facebook, Google কর্তৃপক্ষ তথ্য গুলো বিক্রি করে দেয় যার ফলে আপনি যাই সার্চ দিন না কেন সেগুলোর তথ্য অনুসারে পন্যের বিজ্ঞাপন নিয়ে হাজির হবে Google, Facebook এর মতো প্রতিষ্ঠান গুলো। 


Search Engine Optimization (SEO)
Search Engine Optimization (SEO)



✅ অনেকে না বুঝেই স্পর্শকাতর অনেক কিছুই সার্চ দেন সেক্ষেত্রে আপনার উচিত সবগুলো Apps, Gmail, logout করা এবং Location Off করে ব্রাউজারের Incognito Mode On করে  সার্চ দেয়া এতে করে আপনার তথ্য গুলো কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকবে এবং সার্চ History থাকবে না(যদি কোন কারণে History তে থেকে যায় সেগুলো সাথে সাথে ডিলিট করে দেয়া)। 
⚠ (এখন Bkash এর মতো অনেক Apps আছে যেগুলো অন করতে হলে Location On কর‍তে হয়; এসব থেকেও তথ্য নেয় আপনার অভ্যাসগত পরিবর্তনের এবং কোথায় আপনি এখন থাকবেন সে ব্যাপারে Accurate তথ্য বের করে ফেলতে পারবে Location Off রাখা সত্ত্বেও )


আসুন ২টা  উদাহরণ দেখিঃ
1⃣ আমার একটা ফেসবুক পেজ আছে আমি চাচ্ছি আমার লেখা পোস্ট/পন্য গুলো ডলার দিয়ে বুস্ট করবো তখন আমাকে কিছু keyword filter করে ট্যাগ করে লিখতে হবে যেমনঃ আমি চাচ্ছি পন্যটা ২৫-৩০ বছর বয়সী, ম্যারিড,ছেলেদের জন্য, এই পন্যে ইন্টারেস্ট তাদের আছে এবং Location ও উল্লেখ করে দিলাম এটা দেয়ার মানে হচ্ছে এরা  Accurate ভাবে সেইসমস্ত মানুষের কাছে পৌছাবে যারা এই সব পন্য সম্পর্কে আগ্রহী, বয়স ২৫-৩০ এর মধ্যে, নির্দিস্ট location এর মানুষকে খুজে দিবে google। এতে করে বিক্রি বাড়ে হ্যাঁ এটা শুনে মনে হচ্ছে এটাতো খুবই ভালো। বিক্রেতাদের জন্য ভালো ‼ বিশেষ করে মেয়েরা তাদের ব্যাবহার্য পন্যগুলো সার্চ দিলে তাদের কাছেই বারবার সেই পন্য গুলো বিজ্ঞাপন অথবা বিজ্ঞাপনের ভিডিও দেখাবে। 

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনার আমার তথ্য গুলোর History Dark web এ মাথা পিছু ২৫ ডলার থেকে হাজার ডলারে বিক্রি হয় যার ফলে কেউ যদি ভাড়াটে খুনি/হ্যাকার ঠিক করে Dark web এ তখন আপনার ব্যাংক ডাটা অথবা আপনার ক্ষতি সাধন করা একেবারেই ইজি। আপনি কোথায় কখন যান, কি করেন না করেন কি খান, কেমন মানুষের সাথে চলেন সম্ভাব্য সকল পরিসংখ্যান দাড় করিয়ে ফেলতে পারে AI এবং IOT এর মাধ্যমে। 


2⃣ অনেক সময় আপনি সরকার বিরোধী কাজে লিপ্ত/স্টযাটাস , বা খারাপ সাইটে যান, ইত্যাদি স্পর্শকাতর ইস্যুতে সরকার চাইলে নেট ব্রাউজিং এর ইতিহাস ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে আপনাকে ধরে ফেলতে সক্ষম কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনিতো অপরাধী না হয়ে কৌতূহল বশত অনেক কিছু সার্চ দিতেই পারেন সেক্ষেত্রেও যদি ভূল ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয় সেটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব না কারণ সরকার অনেক সময় একটা ইস্যু নিয়ে ব্যাপকভাবে ধরপাকর করে শুধু এই ধরনের অনলাইন হিস্টোরী ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে । 


⭕ যেমনঃ কিছুদিন আগে প্যালেস্টাইন এ হামলার কারণে যারা ইজরায়েলকে শাস্তির জন্য  এর নাম ব্যাবহার করে যারা একের অধিক পোস্ট দিয়েছেন ফেসবুক তাদের আইডি ব্লক এমনকি চিরতরে ডিলিট করে দিয়েছে!!


অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকা/ইউরোপে উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে হলে সেসব দেশ এসব সোশ্যাল সাইটের তথ্য নিয়ে ট্র্যাকিং করে ভিসা বাতিল করা হয় এবং ভিসা জটিলতার সৃস্টি করে ! 


🔴 এছাড়া,
ইউরোপ আমেরিকার রাস্তায়, ইউনিভার্সিটিগুলোতে সবসময় বিভিন্ন তথ্য হালনাগাদ করে রিসার্চ এর জন্য  বিনিময়ে আপনাকে ১০-২৫ পাউন্ড/ডলার দিবে বা একটা পেপসি ক্যান/স্ন্যাকস ধরিয়ে দিবে! 
চিন্তা করেন আপনার তথ্য কত মূল্যবান যে বিনিময়ে টাকা দিচ্ছে এবং স্ন্যাকস খাওয়াচ্ছে!!


 আমাদের ম্যানেজমেন্ট  ডিপার্টমেন্ট হেড শাহেদুর রহমান স্যার থেকে একবার বাংলাদেশী স্থানীয়   লোকদের সম্পর্কে তথ্যের বিনিময়ে ১৫ পাউন্ড দিয়েছিলো স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটিতে !! স্যার এখন CU এর অধিনে Data Research Institute  প্রধান হিসেবে আছেন ; বাংলাদেশের সকল ডাটা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে(এরা অবশ্য জানেনা) বিদেশি নামকরা Data Bank এ বিক্রি করা হয়। এখান থেকে বিশ্বের নামকরা কোম্পানি বিজ্ঞাপনের জন্য,  রিসার্চাররা  রিসার্চের  জন্য,বিভিন্ন দেশের সরকার সামরিক ও প্রতিরক্ষার জন্য,মাফিয়ারা  Data কিনে নেয়। 


🔴 এছাড়া,
অনলাইনে যেসব প্রাংক ভিডিও দেখেন সেগুলো ও একপ্রকার মানুষের আচরণগত পর্যবেক্ষনের তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের  যারা ভিডিও গুলো বানাচ্ছেন তাদের অনেকেই হয়তো জানেন না কিভাবে এসব তথ্য বিক্রি করতে হয় অথবা নেশার ঘোরে বিনোদনের জন্য বানাচ্ছেন।


আমাদের স্ট্র্যাটেজিক সাপ্লাই চেইন সাব্জেক্টের প্রতিটা ক্লাসে আমাদের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান জাভেদ হোসাইন স্যার আমাদেরকে একটা কথায় সবাইকে সবসময় বলতেন সেটা হচ্ছে,"Information Is Power" সো বি কেয়ারফুল এসব ব্যাবহারে । (আমাদের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সাব্জেট টাও তথ্য নিয়ে কাজ করে বিক্রি বাট্টা নিয়ে কাজ করে এখন তো বিদেশের অনেক স্টোরে সেলস বয়/গার্ল বাদ দিয়ে AI এবং IOT ব্যাবহার করা হয়।) 


আমাদের দেশের তথ্য গুলো ইজিলি যে কেউ পায় কারণ আমাদের পররাষ্ট্রনীতি দূর্বল এবং আমাদের আকাশ সবার জন্য উন্মুক্ত অথচ চীনের/আমেরিকার ভিতরে কি হচ্ছে আপনি কখনোই জানবেন না যতক্ষণ না উনারা/উনাদের সরকার যা প্রচার করছে বা করতে দিচ্ছে।

©Md. Omar Faruq Shamim  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University) থেকে Medium Of Instruction (MOI) কিভাবে নিবেন?

⭕ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল কোর্স সম্পর্কে অনেকে অনেক কিছুই জেনেছেন আজ নতুন একটা দিক নিয়ে বলবো!(অনেকে জেনে থাকতেও পারে) সেটা হলো প্রফেশনাল অনার্স কোর্স থেকে পাশ করে যারা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছুক তাদের বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কে একটি এক্সট্রা সনদ দিতে হয় সেটা হল MOI।  Medium of Instruction 🎀 MOI মানে হল  Medium of Instruction (MOI)   এটা হল আপনি যে পূর্বের পড়াশোনা(অনার্স/মার্স্টাস) ইংরেজি মাধ্যমে পড়েছেন সেটার সনদ। আপনি যদি IELTS /TOEFLএর পাশাপাশি MOI দেন তাহলে আপনার স্কলারশিপ/অথবা স্কলারসশিপ ছাড়া ভর্তি এবং ভিসা পেতে জটিলতা পোহাতে হয়না।  তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে IELTS ছাড়া MOI দিয়েও ভর্তি করিয়ে থাকেন। যেমনঃ জার্মানী(অবশ্য জার্মানীতে ৯০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ফ্রি দেশী বিদেশি সব ছাত্রছাত্রী দের জন্য)।  🚩তবে যাইহোক বিদেশে যেতে হলে শুধু MOI টা দিয়ে নয় IELTS এর স্কোর এর সাথে MOI দিবেন। 🎀 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল কোর্সের স্টুডেন্ট দের MOI পেতে বেগ পোহাতে হয়। কিন্তু প্রফেশনাল কোর্সের স্টুডেন্ট দের যেহেতু পড়াটাই ইংরেজি মাধ্যমে সেহেতু অন্যান্...

নামের আগের কারা ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহার করতে পারবেন।

আপানারা অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE, ECE, Aeronautical Engineering , Textile, N autical Engineering ইত্যাদি  কোর্স করে কি নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী দেয়া যায় ?  উত্তর হলঃ আপনি বাংলাদেশের যেকোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটি এবং যেকোনো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(শুধু মাত্র শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) , প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি(কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) এমনকি বিদেশী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব কোর্স করেও নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না ।  The Institution of engineers, Bangladesh(IEB) এর অনুমোদন প্রাপ্ত ডিগ্রি এবং এর পূর্ণ সদস্য ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে পাশ করে আপনি নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন । The Institution of engineers, Bangladesh(IEB) কে বলা হয় ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য অভিভাবক সংস্থা। নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার টাইটেল যোগ করতে পারার পূর্ব শর্ত হলো IEB accredited ডিগ্রী অর্জন করতে হবে। IEB র পূর্ণ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, BUET, KUET, RUET, CUET, DUET। অর্থাৎ এইসব ...

Professional MBA ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের(National University) শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ‼

⭕ Professional MBA নিয়ে কিছু কথাঃ যারা প্রফেশনাল বিবিএ কম্পলিট করে প্রফেশনাল MBA করবেন ভাবছেন তাদের উদ্দেশ্য বলছি, জেনারেল MBA এর তুলনায় প্রফেশনাল MBA তে সময় বেশী লাগে(NU কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে)।অথচ জেনারেল/প্রফেশনাল MBA কোর্স  ১ বছর মেয়াদি । প্রফেশনাল MBA এর কলেজ সারা বাংলাদেশে মাত্র ১২ +/- টি; সে হিসাব করলে তাদের পরীক্ষা সবার আগেই শেষ হওয়ার কথা‼ চলুন একটা বাস্তব উদাহরণ দেই.... ২০১৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেল এবং প্রফেশনাল MBA এর একসাথে সার্কুলার দিয়েছিলো।(তবে প্রায় সময় জেনারেল MBA এর টা আগে দেয় এটার আরেকটা কারণ হচ্ছে প্রফেশনাল BBA যারা করে তাদের ফাইনাল সেমিস্টার শেষে ৩ মাসের এক্সট্রা ইন্টার্নশীপের পাশাপাশি রিপোর্ট রেডি তার পরের মাসে VIVA এবং তারপর ২-২.৫ মাস পর রেজাল্ট দেয়ার কারণে)।  যথারীতি ফেব্রুয়ারি-মার্চে(ফাইনাল ওয়েটিং লিস্টের সময় পর্যন্ত) জেনারেল MBA ভর্তি শুরু হয়ে ক্লাস ও শুরু হয়ে গেলো প্রায় একই সময়ে মার্চ-এপ্রিলে প্রফেশনাল এর ভর্তি (ফাইনাল ওয়েটিং লিস্টের সময় পর্যন্ত) হয়ে গেল। কিন্তু বছর শেষে দেখা গেলো জেনারেল এমবিএ এর ফাইনাল এক্সাম শেষ রেজাল্ট ও দিয়ে দিলো কি...