সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কেন আমরা সরকারী চাকুরীর(Govt. job) পিছে ছুটি ?

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বর্তমান জব সেক্টর নিয়ে কোনো বাস্তব ধারণা দেয়া হয়না(দিবেই বা কি করে একজন বিবিএস ক্যাডার শিক্ষক নিজেই জানেনা) যার কারণে সরকারী জবের উছিলা দিয়ে কোচিং সেন্টার গুলো শত কোটি টাকার ব্যবসার ফাঁদে আমাদের আটকে রেখেছে। আমাদের মাথায় ব্রেইন ওয়াশ করে এটা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে ভাল রেজাল্ট না করলে ভাল জব পাবেনা, ব্যাংক,বিসিএসে, সরকারী(যেকোনো পোস্টে) চাকুরী না করলে বিয়ের পাত্র পাত্রি পাবেনা, বেসরকারি চাকুরী ব্যবসা অনেক কস্ট, সরকারি তে পিওনের চাকুরী করলেও নাকি রাজার হালে থাকা যায় আর পাশে বাড়ির আন্টিরা তো আছেনই খোঁচা মেরে কথা বলার হ্যান ত্যান। অথচ আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের ক্রিয়েটিভিটি ধ্বংস করে দিচ্ছি এসব প্রতিযোগিতার পিছে ছুটে। চাকুরী না করে উদ্যোক্তা হতে দিতে কেউ চায় না, মনের মদ্ধে হতাশা ঢুকিয়ে দেয় তাই ১টা ছেলেমেয়ে শেষ পর্যায়ে খেতে ঘুমাতে চলতে ফিরতে হতাশা নিয়ে চলতে হয়। তখন বাধ্য হয়ে বেকার থাকতে হয়। আপনার কি মনে হয় ভাল রেজাল্ট না করলে আপনি ভাল জব পাবেন না এসব মানুষের ভূল ধারণা। আপনার প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট আপনাকে শুধু চাকুরী আবেদনের যোগ্যতা দিবে এর বাইরে আর কিছুই না। বিবিএ এমবিএ তে আমরা যা পড়ি সেই পড়া সাথে আমাদের জবের কোনো মিল পাইনা কারণ আমরা সবাই সরকারি চাকরি নিয়েই পাগলের মত ছুটছি কারণ হল আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা(আমরা আমাদের জব সেক্টর নিয়ে কিছুই জানিনা)। তাই আমাদের চেস্টা থাকবে আপনাদের সেই সুযোগ টা করে দেয়া যাতে করে কখনোই আপনার রেজাল্ট, চাকুরী এসব নিয়ে হতাশায় থাকতে না হয়। আগে Intrapreneur হবেন তারপর কিছুদিন (৪-৫) বছর জব করে অভিজ্ঞতা নিয়ে হবেন Entrepreneur। তারপর আপনি নিজেই জবে রিক্রুট করবেন তরুণদের। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ শেখানো হয়না ব্যাবসা করতে L/C কিভাবে করে, কিভাবে ব্যাংক থেকে সহজে লোন পাওয়া যায়, বলেনা সিভিটা কিভাবে রেডি করতে হয় এক এক জবের এক এক রকম অথচ আমরা International business,business law,organizanal behavior, management, ইত্যাদি মাল্টিডিসিপ্লিনারি সাব্জেক্ট পড়েছি কিন্তু আমাদের সেসব নিয়ে ধারনা দেয়া হয়নি। অথচ পাবলিকের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের এই বিষয় গুলো নিয়ে সবার আগে আলোচনা করে ইভেন সিভি কিভাবে বানাতে হবে ফরম্যাট টা পর্যন্ত দিয়ে দেয় অন্তত জবের জন্য রেফারেন্স টা দেয় । তাহলে এসব বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক দিয়ে কি ঘোড়ার ঘাস কাটব যদি তারা ন্যূনতম ধারণা টাও না দেয়। তাই আমরা চেস্টা করছি ক্যারিয়ার নিয়ে বাস্তব শিক্ষন এবং জব সেক্টর নিয়ে কিছু জানানোর যাতে করে আপনারা নিজেরা কখনোই হতাশা বোধ না করেন। মাঝে ২-৩ সপ্তাহের ব্যাস্ত শিডিউল শেষ করে আপনাদের জন্য আরও নতুন টপিক নিয়ে হাজির হব। আপনাদের কোন নতুন বিষয় নিয়ে জানার থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন আমরা সেগুলো পয়েন্ট আউট করে রাখব। কিভাবে পড়াশোনা করতে হবে সেসব নিয়ে আলোচনা করার চাইতে জব সেক্টর নিয়ে আলোচনা করাটা বেশী জরুরী কারণ পড়ালেখা আপনারা নিজেরাই করে নিতে পারবেন, সবাই এখন ম্যাচুর। ভাল রেজাল্ট করলেই যদি ভাল জব হত তাহলে বাংলাদেশে সিজিপিএ ৩.০০ এর নিচের স্টুডেন্ট রা জীবনেও চাকুরী ব্যাবসা কিছুই করতে পারতো না। একাডেমিক ভাল রেজাল্ট আমাদের মাত্র ১৫-২০% হেল্প করে থাকে মাত্র বাকিটা হচ্ছে আপনার এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস, হাতে কলমে প্রশিক্ষন, সফটওয়্যার কোর্স, শেখার আগ্রহ এবং বড় হওয়ার দুর্বার আকাঙ্ক্ষা।
ভাল থাকবেন সবাই। ধন্যবাদ সবাইকে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University) থেকে Medium Of Instruction (MOI) কিভাবে নিবেন?

⭕ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল কোর্স সম্পর্কে অনেকে অনেক কিছুই জেনেছেন আজ নতুন একটা দিক নিয়ে বলবো!(অনেকে জেনে থাকতেও পারে) সেটা হলো প্রফেশনাল অনার্স কোর্স থেকে পাশ করে যারা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছুক তাদের বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কে একটি এক্সট্রা সনদ দিতে হয় সেটা হল MOI।  Medium of Instruction 🎀 MOI মানে হল  Medium of Instruction (MOI)   এটা হল আপনি যে পূর্বের পড়াশোনা(অনার্স/মার্স্টাস) ইংরেজি মাধ্যমে পড়েছেন সেটার সনদ। আপনি যদি IELTS /TOEFLএর পাশাপাশি MOI দেন তাহলে আপনার স্কলারশিপ/অথবা স্কলারসশিপ ছাড়া ভর্তি এবং ভিসা পেতে জটিলতা পোহাতে হয়না।  তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে IELTS ছাড়া MOI দিয়েও ভর্তি করিয়ে থাকেন। যেমনঃ জার্মানী(অবশ্য জার্মানীতে ৯০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ফ্রি দেশী বিদেশি সব ছাত্রছাত্রী দের জন্য)।  🚩তবে যাইহোক বিদেশে যেতে হলে শুধু MOI টা দিয়ে নয় IELTS এর স্কোর এর সাথে MOI দিবেন। 🎀 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল কোর্সের স্টুডেন্ট দের MOI পেতে বেগ পোহাতে হয়। কিন্তু প্রফেশনাল কোর্সের স্টুডেন্ট দের যেহেতু পড়াটাই ইংরেজি মাধ্যমে সেহেতু অন্যান্...

নামের আগের কারা ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহার করতে পারবেন।

আপানারা অনেকেই প্রশ্ন করেছেন যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE, ECE, Aeronautical Engineering , Textile, N autical Engineering ইত্যাদি  কোর্স করে কি নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী দেয়া যায় ?  উত্তর হলঃ আপনি বাংলাদেশের যেকোনো পাবলিক ইউনিভার্সিটি এবং যেকোনো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(শুধু মাত্র শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) , প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি(কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত) এমনকি বিদেশী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব কোর্স করেও নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না ।  The Institution of engineers, Bangladesh(IEB) এর অনুমোদন প্রাপ্ত ডিগ্রি এবং এর পূর্ণ সদস্য ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে পাশ করে আপনি নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন । The Institution of engineers, Bangladesh(IEB) কে বলা হয় ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য অভিভাবক সংস্থা। নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার টাইটেল যোগ করতে পারার পূর্ব শর্ত হলো IEB accredited ডিগ্রী অর্জন করতে হবে। IEB র পূর্ণ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, BUET, KUET, RUET, CUET, DUET। অর্থাৎ এইসব ...

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী যারা IBA-MBA তে পড়তে চায় তাদের জন্য

★IBA(BBA/MBA)- আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর:: ►আইবিএ কি? ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনেসট্রশন এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে বিবিএ ও এমবিএ, এক্সিকিউটিভ এমবিএ পড়ানো হয়। ►আইবিএ বলতে কি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএকেই বোঝায়। জ্বি না, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইবিএ আছে, জাহাঙ্গীরনগরে আইবিএ আছে কিন্তু যদিও এখনও মানুষ আইবিএ বলতে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের আইবিএটাকেই বোঝে। ►আইবিএতে কারা পড়তে পারে? যেকোন গ্রুপ থেকে (সাইন্স/আর্টস/কমার্স) এইচ এসসি পাশ করার পরে বিবিএতে আর যেকোন গ্রুপ থেকে (সাইন্স/আর্টস/ কমার্স) অনার্স/বিবিএ/বিএসসি অর্থ্যাৎ চার বছরের যেকোন কোর্স পাশ করে এমবিএতে ভর্তী পরীক্ষা দেয়া যায়। ►জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের/প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কি এখানে পড়তে পারবে? হ্যাঁ অবশ্যই পারেবে এবং এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই এখানে পড়তেছে। ►এখানে ভর্তীর যোগ্যত কি? বিবিএতে যোগ্যতা: যেকোন গ্রুপ থেকে এসএসসিতে ৩.০০, এইচএসসিতে ৩.০০করে মোট 7.50 এমবিএতে ভর্তীর যোগ্যতা: যেকোন গ্রুপ থেকে এসএসসিতে ৩.০০, এইচএসসিতে ৩.০০ অনার্স এ সেকেন্ড ক্লাশ বা ২.৫০ হলেই হব...